মোঃ সুমন, স্টার্ফ রিপোর্টার: ঢাকার নবাবগঞ্জে সিয়াম বিশ্বাস (১৭) নামের এক মিশু চালককে খুন করে মিশুক ছিনতাই ও গুম করার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। রবিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা দোহার সার্কেল এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম। নিহত সিয়াম উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের সমসাবাদ নদীরপাড় এলাকার মোঃ জসীম উদ্দিন ও লতা বেগম দম্পতির ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার সমসাবাদ এলাকার সমির মেম্বার বাড়ির ভাড়াটিয়া ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার তুজারপুর এলাকার সারোয়ার মোল্লার ছেলে সাজ্জাদ মোল্লা (৩৪) “সিয়াম হত্যার প্রধান আসামী”, উপজেলার মাঝিরকান্দা এলাকার ভাড়াটিয়া ও কেরাণীগঞ্জের লাকিরচর এলাকার মৃত মনসুর আলীর ছেলে মোঃ মোকসেদ আলী (৫০) চুরাই মিশু গাড়ি ক্রয় করে অন্যত্র বিক্রয় করেন, মৃত শাহাবদ্দিন এর ছেলে জুলহাস (৩৭) ও সাভার থানার হেমায়েতপুরের চান্দুলিয়া এলাকার মিঠু মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ মনোয়ার বেগম (৫০) চুরাই গাড়ির ক্রয় বিক্রয় করে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ১নং আসামী সাজ্জাদ মোলা মিশুক চালক সিয়ামের মিশুক ভাড়া নিয়ে গেলে তারপর থেকে সিয়াম আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরে সিয়ামের বাবা বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুজির পরও তাকে না পেয়ে গত শনিবার ১২ অক্টোবর নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। পরে ১৪ অক্টোবর নবাবগঞ্জ থানার আগলা ইউনিয়র মোহনপুর এলাকার পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের সামনের রাস্তার ১০০ গজ উত্তরের ঢালুতে জঙ্গলে নিহত সিয়ামের লাশ উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে ১৬ অক্টোবর নিহতের বাবা মোঃ জসীম বাদি হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করলে এর ধারাবিহকতায় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আহম্মদ মুঈদ এর নির্দেশনায় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে গ্রেপ্তারের পর আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। প্রধান আসামী আর বলে যে, এক সাথে মাদক দ্রব্য সেবন করবেন সেই সুবাদে দুইজনের বয়সের ব্যবধান কোন তুয়াক্কা না করে, সিয়াম ও সাজ্জাদ প্রায় দুই জনে একাধীন বার মাদক দ্রব্য সেবন করেছে, শেষ বার সিয়াম নিখোজ হওয়ার দিনও মাদক সেবনের উদ্ধেশ্যে সিয়ামকে একটি ভাড়ার কথা বলে, আনুমানিক ৩টার দিকে আমাসী সাজ্জাদ নিয়ে যায়, একটি নির্জন স্থানে দুই জন মাদক সেবক করার এক পর্যায় আসামী পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে সিয়ামকে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নবাবগঞ্জ থানাধীণ আগলা ইউনিয়নের মোহনপুর সাকিনস্থ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকা-নবাবগঞ্জ রোডের অনুমান ১০০ গজ উত্তরে রাস্তার ঢালুতে জঙ্গলে ফেলে রাখিয়াছে যাতে কেহ দেখতে না পারে।
আরও জানায় যায় যে, (২) আসামী, মোঃ মোকসেদ আলী, এলাকায় এলাকায় ঘুরে ঘুরে পুরাতন ভাঙ্গারী মালামাল সংগ্রহ করে সেই ভাঙ্গারী মালামাল বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করে, অল্পকিছু মুনাফার আশায় (১) নং আসামীর কাছে একটি পুরাতন মিশুক অটোরিক্সা আছে বিক্রয় করবে বলে মোকসেদের সাথে যোগাযোগ করলে মোকসেদ ১নং বিক্রয় পক্ষের সাথে ৩ নং ও ৪নং ক্রয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা দোহার সার্কেল এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম জানান, তথ্যপ্রযুুক্তির সহযোগিতায় আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আসামীররা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাদের তথ্য মতে ছিনতাই হওয়া মিশুক গাড়ি ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।