তমাল জানান, গত ৮ জানুয়ারি ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তার বাবা আজাদুল ইসলাম পান্নু। ৯ জানুয়ারি বাসায় ফিরে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি তাদের পরিবার।
এদিকে গত ১০ জানুয়ারি তমাল নবাবগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকেও রাজশাহীতে একাধিকবার খোঁজ নেওয়া হলেও খোঁজ মেলেনি তার। এভাবে নানা শঙ্কায় প্রায় দেড় মাসের কাছাকাছি হলেও এখনো সন্ধান না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছেন আজাদুল ইসলাম হাই পান্নুর পরিবার।
ছেলে সিহাব তমাল বলেন, ‘বাবা রাজশাহী পৌঁছেছেন এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। বেশ কিছুদিন ধরে রাজনীতিসহ বিভিন্ন কারণে বাবার কিছুটা মনোক্ষুণ্নতা ছিল। তবে তিনি অত্যন্ত চাপা স্বভাবের হওয়ায় কাউকে কিছু বলতেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বাবা মাঝে মাঝে আত্মগোপনে যেতেন রাজনৈতিক হয়রানির কারণে। কিন্তু এখন তো সেই পরিস্থিতি নেই। তবু কারো ওপর অভিমান করে বাবা আত্মগোপনে গেলেন কি না এমন সন্দেহ রয়েছে আমাদের। প্রায় দেড় মাসের কাছাকাছি বাবা নিখোঁজ হওয়ায় আমাদের পরিবারের ওপর দিয়ে বিভিন্ন ঝড় ঝাপটা যাচ্ছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত বাবাকে ফিরে পাব, এমনটাই প্রত্যাশা করছি।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম বলেন, ‘আজাদুল হক পান্নুর নিখোঁজের বিষয়টি আমরা জানি। তিনি মাঝে মাঝে চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে যেতেন। তবে সেদিন রাজশাহীতে যাবার পর থেকে তার সন্ধান আর মেলেনি। এটা খুবই উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে নবাবগঞ্জের প্রশাসনের সঙ্গে কথাও বলেছি। তারা আশ্বস্ত করেছেন নিখোঁজ পান্নুকে উদ্ধারে তারা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন। আমরা চাই পান্নু আমাদের মাঝে দ্রুত ফিরে এসে সাংগঠনিক কাজ কর্ম আগের মত করবে।’
নিখোঁজ পান্নুর কয়েকজন সহকর্মী বলেন, ‘তিনি সবসময় সাধারণ জীবনযাপন করতেন। ৫ই আগস্টের পরও তার চলাফেরা ছিল আগের মতো। পুরো উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত ভাল মানুষ হিসেবে সুনাম রয়েছে তার। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিখোঁজ এমন কোনো তথ্যই জানেন না বেশির ভাগ বিএনপির নেতাকর্মী। অজ্ঞাত কারণে আজাদুল ইসলাম হাই পান্নু রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন, এমনই ধারণা তাদের।’
দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, ‘নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি রাজশাহী যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি প্রায় প্রায় এভাবে নিজেই আত্মগোপনে যেতেন। যেটা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি। তার ছেলে এ বিষয়ে থানায় সাধারন ডায়েরি করার পর থেকে আমরা সব থানায় বেতার বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি অবগত করেছি এবং বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তাছাড়া তাকে উদ্ধারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশা করি, দ্রুত তাকে উদ্ধার করতে পারব।’
প্রসঙ্গত, আজাদুল ইসলাম হাই পান্নু নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার আগে ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অত্যন্ত স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ ও ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত বিএনপির এ নেতা। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় আসামি হয়ে পাঁচবারের বেশি কারাভোগ করেছেন তিনি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আদালতে হাজিরা দিতে গেলে গায়েবি মামলায় ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তখনই নবাবগঞ্জ থানায় সাতদিনের রিমান্ড এনে নির্যাতন করা হয়। এমনকি সে সময় পরিবারের সঙ্গে দেখাও করতে দেয়নি পুলিশ। এত নির্যাতনের পরও বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি ৭৬ বছর বয়সী এ রাজনীতিবিদ।
উল্লেখ্য, নিখোঁজ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজাদুল ইসলাম হাই পান্নু ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামের বাসিন্দা।