দোহার ( ঢাকা) প্রতিনিধি.
ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া সরকরি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ম বহির্ভূত টাকা উত্তলনের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদ খন্দকারের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগষ্টের পর ততকালীন প্রধান শিক্ষক এস এম আব্দুল খালেক ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারী শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদ খন্দকার। অভিযোগ রয়েছে দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন কৌশলে নিয়ম বহির্ভূত আয়ের সুযোগ খোঁজেন এই শিক্ষক।
এমন তথ্য পেয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, গতবছরের ৩০ ডিসেম্বর মোস্তাক আহমেদ বেতন তোলেন ৭,৪৮০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য ১৪ জন শিক্ষক, অফিস সহকারী, আয়া, নৈশ প্রহরী, পিয়ন ও দারোয়ানসহ মোট বেতন উত্তলন করা হয় ১,৪৩,৫৭৫ টাকা।
অথচ কোনো প্রকার রেজুলেশন পাশ না করে এবং সকল শিক্ষক ও কমিটিকে অবহিত না করে ভারপ্রাপ্ত প্রদান শিক্ষক জানুয়ারী মাসের বেতন তোলেন ২০,১১৯ টাকা। এছাড়া যেখানে গত মাসে ১৪ জন শিক্ষক, অফিস সহকারী, আয়া,নৈশ প্রহরী,পিয়ন ও দারোয়ানসহ মোট বেতন উত্তলন করা হয় ১,৪৩,৫৭৫ টাকা সেখানে জানুয়ারী মাসে মোট বেতন তোলা হয় ২,৩১,৯৭১ টাকা। যেখানে ভুল তথ্য দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্বাক্ষর নিয়ে আসা হয় বীল শীটে।
এমন নিয়ম বহির্ভূত বেতন উত্তলন নিয়ে বিদ্যালয়ে অন্যান্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা সমালোচনা।
এছাড়া বেতন উত্তলনের বীল শীটে দেখা যায় বিলটি সঠিক ভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এই মর্মে স্বাক্ষর করেন মো.জসিম উদ্দিন নামে এক সহকারী শিক্ষক। যেখানে ঐ শিক্ষকের স্বাক্ষরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মের বাইরে মাদ্রাসার শিক্ষক থেকে সরকারি এই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন এই মোস্তাক আহাম্মদ। এছাড়া তার শিক্ষতা নিয়োগকালে বয়সসীমা ভুল দেখানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। এনিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহা পরিচালক তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে নোটিশের জবাব দেন মোস্তাক আহাম্মদ। জবাবের কপিতে পদ সৃজনের কপি ও এমপিও কপি দিলেও সেখানে বয়সসীমার কোনো প্রমান দিতে পারেননি।
এবিষয়ে মোস্তাক আহাম্মদ খন্দকারের বক্তব্য জানতে ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ফোন দিলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনেক কিছুই জানেনা। আমি নিয়ম মেনে সব কাজ করেছি। নিয়োগের বিষয়ে বলেন, আমি বৈধভাবেই নিয়োগ পেয়েছি। এসময় তিনি রোববার সব কাগজপত্র দেখাতে চান। পরে ঐদিন ফোন দিয়ে বলেন সোমবার কাগজপত্র দেখাবেন। পরে তিনি আর কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।
এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, অতিরিক্ত বেতন উত্তলনের বিষয়টি নিয়মের বাইরে থাকায় তাদের ডেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামীমাসে এটি সমন্নয় করা হবে।