দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের হেলথ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। তবে, সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও শিশুটির পরিবারের মধ্যে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় আপস রফা হওয়ায় হাসপাতালটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। জানা যায়, শিশুটির মলদ্বারে জন্মগত ত্রুটি থাকায় মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমানের পরামর্শে তাকে মানিকগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত হেলথ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর যথাযথ পোস্ট অপারেটিভ ট্রিটমেন্টের অভাবে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও এই হাসপাতালে একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রতিবারই তদন্তের নামে সময়ক্ষেপন ও টাকা ঢেলে ঘটনা ধামাচাপা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সিভিল সার্জন মকছেদুল মোমিন জানিয়েছিলেন, তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত হাসপাতালটি বন্ধ থাকবে এবং রিপোর্টের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের গেট খোলা এবং রোগীরা ডাক্তার দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছেন। হাসপাতালটির তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, তারা শিশুটির পরিবারের সাথে আপস করেছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা ডাক্তার ফেরদৌসের অনুমতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে হাসপাতালটি পুনরায় চালু করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ডাক্তার ফেরদৌস এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। আমি হাসপাতাল চালু করার কথা বলিনি। সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, হাসপাতালটি বন্ধ নাকি চালু থাকবে, সে ব্যাপারে তিনি লিখিত কিছু পাননি।